দেশে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য সংকট নিরসন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণ ও বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলার লক্ষ্যে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোর (ওবিইউ) কার্যক্রমে শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ওবিইউগুলো দেশীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেন করতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে গতকাল জারীকৃত এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি জারীকৃত সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওবিইগুলো বিশেষায়িত ও অবিশেষায়িত অঞ্চলের ব্যবসার অর্থায়ন, আমানত গ্রহণ এবং বহিঃউৎস থেকে ঋণ গ্রহণের মতো নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে অন্য কোনো লেনদেন করতে পারত না। নতুন নির্দেশনায় এ বাধ্যবাধকতাগুলো শিথিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ওবিইউগুলো তাদের নিজস্ব দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিট (ডিবিইউ) ও অন্যান্য তফিসিলি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে। একইসঙ্গে এক ওবিইউ অন্য ওবিইউর সঙ্গে এবং দেশে বিদ্যমান অন্যান্য বৈধ স্থানীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা ও সোয়াপ চুক্তি করতে পারবে। ফলে অনুমোদিত বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ আরো বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ সুযোগ কেবল গ্রাহকদের বৈধ বাণিজ্যিক লেনদেন, তহবিলের সংস্থান, দায় মেটানো, তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সরাসরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে।
ব্যাংকগুলো যাতে কেবল মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো আগ্রাসী বা স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, সব লেনদেনই আন্তর্জাতিক ট্রেজারি অনুশীলন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নির্ধারিত সীমার মধ্য থেকে পরিচালনা করতে হবে। ওবিইউগুলোকে কম সুদে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল জোগাড় করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সেটেলমেন্ট ব্যয় কমাতে সাশ্রয়ী ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ ও ফরেন এক্সচেঞ্জ লেনদেন কৌশল গ্রহণের তাগিদও দেয়া হয়েছে।